সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্বাধীন আরব সময়ের দাবি

‘স্বাধীন আরব’ সময়ের দাবি

-মুহাম্মদ সৈয়দুল হক


জেরুজালেমের বায়তুল মোকাদ্দাস। মুসলিমদের প্রথম কাবা এটুকু নয়। ইতিহাস বলছে এটি অসংখ্য নবী-রাসূলের লালিত পবিত্র ভূমি। যুগ যুগ ধরে সত্যের বাণী এখান থেকেই শোনা গিয়েছিলো। সত্য নামের আলোকরশ্মিটাও এখান থেকেই বিচ্যুরিত হয়েছিলো। সত্যের সে রাজধানী আজ ইহুদিদের রাজধানী। নবীজি এদিকে ফিরেই সালাত আদায় করেছেন অনেক দিন পর্যন্ত। যা আজ আমরা দেখছি, তা এলমে গায়েবের অধিকারি নবী নিশ্চয় বহু আগেই দেখে ফেলেছেন। না হয় এভাবে নামায অবস্থায় ফিরে যাওয়া কেন? পঞ্চাশ থেকে পাঁচ ওয়াক্তে আনয়ন করার পরেও যে জাতি এত উদাসীন, তারা কিভাবে ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে গিয়ে ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হজ্ব আদায় করবে, এ এক বিশাল চিন্তারেখা দরদি নবীজির মনে হয়ত ভর করেছিলো। তাই হয়তো এভাবে চেহারা মোবারক ফিরিয়ে নেয়া।


জাযিরাতুল আরব। পবিত্র ভুমি আজ আর সুঘ্রাণ ছড়ায় না। নবীয়ে পাকের স্পর্শ্বধন্য মাটি গুলো আজ বড়ই অসহায়। মক্কায়ে মোকাররামার নামাযে আজ খোদাভীতির বদলে সেলফি নীতিই অধিক। প্রাণাধিক নবীজির রওজা মোবারকে আলো জ্বলেছে, সে প্রায় দু’শ বছর আগে। যিনি সারা দুনিয়াতে আলো বিলিয়েছিলেন, আজ তার জাহেরি পবিত্র ঘরখানা আঁধার করে দিয়েছে জাহেলি সৌদগুষ্ঠী। সাহাবায়ে কেরামের মাজার গুলো আজ বদ্ধভূমি। আম্মাজান আমেনার কবরটি কয়েকটি পাথরে আবৃত। বাদ বাকি নিদর্শন গুলোকে নজদিরা গলা টিপে মেরেছে সে কবে। মানা যায়? অধৈর্য্য মুসলিম জাতি এ ক্ষেত্রে বিরাট ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। তারা সহ্যশক্তির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু আর কত দিন? দু’শ বছর তো পেরোলো বলে। প্রাক্তন কাবা তো সৌদিরা ওদের দিয়েই দিলো। বর্তমান কাবাটাও কী রক্ষার মিশনে নামবে না মুসলিমরা? অঘোষিত ভাবে তো ইহুদিদের বানিয়ে দেয়া নীতিমালাতেই ঢেঁকুর তোলে হজ্ব করে আসছি বছরের পর বছর। কিন্তু তা পূনরোদ্ধার করার কথা কী কারো মাথায় আসে না? সোনালী অতিত কভূ কী আর ফিরে আসবে না?


বিশ্বজুড়ে তেল ব্যবসার নজির গড়েছে সৌদিরা। প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত তেলে তারা তেলময় হয়ে উঠেছে বহু আগেই। সে তেলের অধিকাংশই ব্যবহৃত হয়েছে বুশ, ট্রাম্প, ওবামাদের কর্কশ ধড়ে। ‘তেল নে, পয়সা দে’ রীতিতে তাদেরকে এক কথায় ‘তেলাবান’ বলা যায়। তাই ট্রাম্পরা সৌদগুষ্ঠিকে মেয়ের শশুর বাড়িতে স্বর্ণের টয়লেট থেকে শুরু করে বিমানের সিড়ি পর্যন্ত সবটাই সোনায় মুড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের পা আর মাটির ছোঁয়া পায় না। অতএব ঐ পবিত্র মাটিও তাই তাদের অধিনে আর থাকতে পারে না। মুক্ত হওয়া চাই, স্বাধীনতা চাই। বিশ্ব মুসলিম সেনাপতিদের পক্ষ থেকে ডাক আসুক, আমরা প্রস্তুত। কোটি মুসলমানের আর্তনাদ, বধির মুসলিম বিশ্ব শুনবে কী?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভাবহীন ভাবনার কবিতা-           তোমরা মোরে প্রেম দিয়ো _______মুহাম্মদ সৈয়দুল হক ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ আমি চাই না- কেউ আমায় কবি বলুক চাই বটে- কেউ আমায় প্রেমিক বলুক। আমি প্রেম করতে চাই- পৃথিবীর সবার সাথে প্রেমিক হয়ে বাঁচতে চাই- অপ্রেমী এ বিশ্বটাতে। একটু প্রেম দিও মোরে- আমি পৃথিবী দেবো সব কিছুর বিনীময়ে- একটু খানি প্রেম চাবো। ওগো প্রেম! তুমি বড্ড অপয়া- ছোঁও না মোরে খালি পথে ঘুরে বেড়াও- অপ্রেমীর ছায়ানীড়ে। আমি ব্যাটা পুড়ে মরি-                             তুমি করো বাড়াবাড়ি উল্টো পথে দৌড়াদৌড়ি-                            কে শোনে কার রোনাজারি। তোমরা মোরে প্রেম দিয়ো-                           একটু খানি খোঁজ নিয়ো আমি তবে আমায় দেবো-                                 জেনে রেখো ও প্রিয়ো।...

প্রশংসিত ৮

 প্রশংসিত-৮ ১. আকাশে ঘনঘন বিদ্যুতের চমক। আগুনের গোলার মতো আলোর রেখা। তিরের গতিতে ছোটে গিয়ে এক জায়গায় অদৃশ্য। যেন দক্ষ শিকারির তাক করা অলঙ্ঘনীয় অভীষ্ট। মিস হওয়ার সুযোগ-ই নেই। মক্কার আকাশে এমন অগ্নিতিরের গতিবিধি বেড়ে গেছে কিছুদিন ধরে। জিন-শয়তানদের মাঝে চরম হতাশা! আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পালিয়ে মরছে। আত্মগোপনের চেষ্টায় মগ্ন কেউকেউ। দুষ্টু জিনদের একদলের সাথে অপর দলের সাক্ষাৎ হলো। বন্ধুগণ, ঘটনা কী? আমাদের প্রতি উল্কাবৃষ্টি শুরু হলো কেন হঠাৎ? শয়তানের সাহায্যে ফেরেশতাদের গোপন কথায় আড়িপাতা কঠিন হয়ে পড়েছে ইদানীং। গণকদের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে পারছি না। এই কারণে তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। অপরদল শোনালো বিষ্ময়কর দুঃসংবাদ! আপন সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বললো—আড়িপাতা বন্ধ করো। “আমরা ফেরেশতাদের মুখে এমন এক কিতাবের পাঠ শুনেছি, যা ইতোপূর্বের কিতাবগুলোকে সত্যায়িত করে এবং সত্য ও সরল পথের দিশা দেয়।” (সুরা ৪৬: ২৯-৩০)। অতঃপর হতাশ জিনসকল হেদায়েতের আশায় মক্কায় নেমে আসতে শুরু করলো… ২. ছোটোখাটো এক পূজোমণ্ডপ। মূর্তির উদ্দেশে সেখানে বাছুর বলি হয়েছে। কাচা মাংসের ভাগ নিতে উপস্থিত মক্কার অন্যতম বীরশার...

রমজান মাহিনা

রমজান মাহিনা —মুহাম্মদ সৈয়দুল হক দ্বারে এসেছে আবার, সেই রহম খোদার রমজান মাহিনা ধরা পেয়েছে আবার খরা পেরিয়ে জোয়ার— রহমত খজিনা। মাফ করিবে খোদায়; হাঁফ ছেড়েছে সবাই সিজদায় পড়ে আজ, পাপ নিয়াছে বিদায় সাফ হয়েছে হৃদয় কোলাহল করে রাজ। ছেড়ে শয়তানি কাম, পড়ে খোদার কালাম, চোখে পর্দা-দখল, হাতে তসবির দান, মুখে জপ সোবহান হাঁকে মসজিদে চল। দেখো জনম-খাদক; যার খাওয়াটাই শখ সদা খাই খাই রব, ডরে এক আল্লার—ঘরে থেকে অনাহার করে সুখ অনুভব। নিয়ে উপাদেয় সব, সবে রয়েছে নিরব পেটে ক্ষুধা-অস্থির— প্রভু দেয়নি আদেশ তাই করে সমাবেশ পড়ে দোয়া-তকবির। রব উঠে তসলিম, ওরে ওরে মুসলিম সম্ভাষে মালায়েক, সব জান্নাতি দ্বার খোলে প্রভু-করুণার ক্ষমে শত নালায়েক। লভে স্বর্গী সুবাস বহে মুক্ত বাতাস পুরো ধরণী অতল শুধু মুসলিম নয় যত ধর্ম ধরায় সেথা মিশেছে সকল।