সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চাষির জবাব

♥চাষির জওয়াব♥

__মুহাম্মদ সৈয়দুল হক

~~~~~~~~~~~~~~

★চাষিকে প্রশ্ন-

কোন গ্রন্থে শিখলেরে ভাই

কোন ইতিহাস থেকে

রচলে একি আজব খামার

গায়ে কাদা মেখে!


কোন কিস্সা পড়ে তোমরা

এমন সাহস পেলে

কি বা এমন মনের বলে

বিল সাজিয়ে দিলে?


কাদার বিলে সোনার ফসল

কেমনে এঁকে দিলে

কোন খাটুনি আছে বাঁকি

দাওনা একটু বলে।


রোদের তাপে অঙ্গ জ্বেলে

করতে ওসব চাষ

কোন সাধনায় আনলে তুমি

হৃদয় জলোচ্ছ্বাস?


সেই সকালে মরুর বিলে

কেমনে নেমে পড়

দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা হলে

তবেই বাড়ি ফির!


এসব তোমার পেটের পুঁজায়

নাকি পরিবারের?

কোন টানেতে খাটা-খাটনি

নাকি সেটা মোদের?


কোন লাভেতে কর এসব

পাও কিরে ভাই ‘মান’

কোন পুরষ্কার পাওগো তোমরা

তুলে ঘরে ধান?


★চাষির জওয়াব-

কেবা তুমি জানিনে তো

কোন সে পাড়ার কবি

মোদের এসব নোংরা কাজের

কেউ কি তুলে ছবি!


জানতে তুমি চাইলে যখন

বলছি তবে শোন

পড়িনি কো গ্রন্থ কেতাব

লাভ নাই এতে কোন।


সাহস সে কি জানিনে তো

পেতে হয় কি সেটা?

বুকের জোরের সেকি কথা

বাপ-কা মোরা বেটা!


সাধন বজন অত কিছু

মাথার পরে নাই

দু’দিন পরে মরলেরে ভাই

ওসব কাজে নাই।


অঙ্গেরি ধার ধারলে মোরা

ফসল কিবা উঠে?

অঙ্গ দিয়ে কি হবে আর

ফসল গেলে টুটে।


ঘর বাড়ি আর বিলের কাদা

দুটাই একি লাগে

মাটির উপর বিছান-বালিশ

বেশ-কম কি জাগে?


পেট পুঁজা আর পিট পুঁজা কি

বুঝিনাতো বাচু

দেশের দশের সেবা হলে

লাগে কি আর কিছু?


লাভ-লোকসান হিসেব করে

চলে যদি সবে

অভাগা এ দেশের সেবা

কে করিবে তবে?


জনম দেওয়া মাতা আমার

বক্ষে কোলে রাখে

নিত্য যারি পিঠে চষি

মা নয় তো কে?


সে কি কথা, পায় তো মোরা

হাজার পুরষ্কার

থাকার বাড়ি, খাবার বড়ি

আর কিরে দরকার?


সবুজ শ্যামল, শষ্য ও ফল

পায় তো নিত্যদিন

চাই কি তবে কাঁচের এ্যাওয়ার্ড

সাথে সোনার রিং?


★ফলস্রুত-

বুঝছি কাকু, বুঝছি আমি

কে বা তোমরা কারা

রচে যারা বাংলাদেশ

তোমরায় তো তারা।


সবুজের এ অট্টালিকা

তোমরা না থাকিলে

এতোদিনে পড়তো খসে

লাল মরিচের জলে!


বাহরে কৃষক একি তোমার

আদর্শ আর বেশ!

নিত্য রচ ষোল কোটির

তুমিই- ‘বাংলাদেশ’।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মসলকে আলা হযরত

বিষয়ঃ মসলকে আলা হযরতঃ একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা। —মুহাম্মদ সৈয়দুল হক শিক্ষার্থী: জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা। ফলপ্রার্থী: ফাযিল প্রথম বর্ষ ★প্রারম্ভিকাঃ  “তমসা ঘেরা এ দুনিয়ার মানুষ দেখিলো সেদিন পথ দীনের আকাশে উদিল যেদিন ‘মসলকে আলা হযরত’ বতুলতায় ভরা এ উপমহাদেশ পেয়েছে সেদিন দিশা রবিসম সে মসলক-গুণে কেটে গেছে অমানিশা।” যাবতীয় প্রশংসা সেঁ মহীয়ান সত্ত্বা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ নবির শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে কবুলের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ইমাম আলা হযরত (রহ.)’র মসলকে কবুল করেছেন। অগুনতি দরুদ ও সালামের নজরানা সেঁ দুজাহানের বাদশা নবি মুহাম্মদ (দ.) এর পাক কদমে, যাঁর অশেষ করুণায় তাঁরই নির্ধারিত যুগের মহান দিকপাল ইমাম আহমদ রেযা খাঁন (রা.)’র মসলকের শামীয়ানায় আমরা আশ্রিত। ইসলামের সকল যুগের সকল সূর্যসন্তানদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালামপূর্বক স্মরণ করছি যাঁর পথ-মত তথা ’মসলক’ নিয়ে লিখতে বসেছি, যুগের সে মহান সংস্কারক, আঁধারে আলোকরশ্মি, দোজকের তাপদাহে জান্নাতি পবন, অথৈ সমুদ্রে জাহাজের কাণ্ডারিতুল্য ইমাম আহমদ রেযা খাঁঁন ব্রেলভী (রা.) কে, যিনি এ পৃথিবীতে না এলে ইসলাম-সূর্য এদ্দিনে হয়ত তাঁর...

প্রশংসিত ৮

 প্রশংসিত-৮ ১. আকাশে ঘনঘন বিদ্যুতের চমক। আগুনের গোলার মতো আলোর রেখা। তিরের গতিতে ছোটে গিয়ে এক জায়গায় অদৃশ্য। যেন দক্ষ শিকারির তাক করা অলঙ্ঘনীয় অভীষ্ট। মিস হওয়ার সুযোগ-ই নেই। মক্কার আকাশে এমন অগ্নিতিরের গতিবিধি বেড়ে গেছে কিছুদিন ধরে। জিন-শয়তানদের মাঝে চরম হতাশা! আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পালিয়ে মরছে। আত্মগোপনের চেষ্টায় মগ্ন কেউকেউ। দুষ্টু জিনদের একদলের সাথে অপর দলের সাক্ষাৎ হলো। বন্ধুগণ, ঘটনা কী? আমাদের প্রতি উল্কাবৃষ্টি শুরু হলো কেন হঠাৎ? শয়তানের সাহায্যে ফেরেশতাদের গোপন কথায় আড়িপাতা কঠিন হয়ে পড়েছে ইদানীং। গণকদের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে পারছি না। এই কারণে তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। অপরদল শোনালো বিষ্ময়কর দুঃসংবাদ! আপন সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বললো—আড়িপাতা বন্ধ করো। “আমরা ফেরেশতাদের মুখে এমন এক কিতাবের পাঠ শুনেছি, যা ইতোপূর্বের কিতাবগুলোকে সত্যায়িত করে এবং সত্য ও সরল পথের দিশা দেয়।” (সুরা ৪৬: ২৯-৩০)। অতঃপর হতাশ জিনসকল হেদায়েতের আশায় মক্কায় নেমে আসতে শুরু করলো… ২. ছোটোখাটো এক পূজোমণ্ডপ। মূর্তির উদ্দেশে সেখানে বাছুর বলি হয়েছে। কাচা মাংসের ভাগ নিতে উপস্থিত মক্কার অন্যতম বীরশার...

রমজান মাহিনা

রমজান মাহিনা —মুহাম্মদ সৈয়দুল হক দ্বারে এসেছে আবার, সেই রহম খোদার রমজান মাহিনা ধরা পেয়েছে আবার খরা পেরিয়ে জোয়ার— রহমত খজিনা। মাফ করিবে খোদায়; হাঁফ ছেড়েছে সবাই সিজদায় পড়ে আজ, পাপ নিয়াছে বিদায় সাফ হয়েছে হৃদয় কোলাহল করে রাজ। ছেড়ে শয়তানি কাম, পড়ে খোদার কালাম, চোখে পর্দা-দখল, হাতে তসবির দান, মুখে জপ সোবহান হাঁকে মসজিদে চল। দেখো জনম-খাদক; যার খাওয়াটাই শখ সদা খাই খাই রব, ডরে এক আল্লার—ঘরে থেকে অনাহার করে সুখ অনুভব। নিয়ে উপাদেয় সব, সবে রয়েছে নিরব পেটে ক্ষুধা-অস্থির— প্রভু দেয়নি আদেশ তাই করে সমাবেশ পড়ে দোয়া-তকবির। রব উঠে তসলিম, ওরে ওরে মুসলিম সম্ভাষে মালায়েক, সব জান্নাতি দ্বার খোলে প্রভু-করুণার ক্ষমে শত নালায়েক। লভে স্বর্গী সুবাস বহে মুক্ত বাতাস পুরো ধরণী অতল শুধু মুসলিম নয় যত ধর্ম ধরায় সেথা মিশেছে সকল।