সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নবাবপুরের হালচাল-৫

এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো....

না। যতই গান ধরুন বা আশায় বুক বাঁধুন না কেন, পথ কিন্তু শেষ না হয়ে ছাড়বে না। হাঁটতে হাঁটতে কখন যে পুরো আধকিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফেললাম, ঠেরই পেলাম না। গোরস্থান পেরিয়েই বিরাট মাঠ। করিম মোল্লার বাড়ি মাঠের পাশেই। এককোণে। আমরা ওখানেই পৌঁছে গেছি। বিশাল আয়োজন! পুরো মাঠজুড়ে প্যাণ্ডেল। একপাশে বিরাট মঞ্চ। আরেকপাশে সারি সারি গরু-মহিশ-বকরি বাঁধা। বিশ-পঁচিশটার কম হবে না। রেযা বললো পুরো বিশেক জবেহ হওয়ার পরে এগুলো অবশিষ্ট। সে কিভাবে জানলো, সেটা আর জানা হলো না। মাঠের ঠিক পরে বিশাল বিলজুড়ে মেলা বসেছে। স্বাধীনতা কিংবা বৈশাখী মেলার আদলেই। লোকে-লোকারণ্য! করিম মোল্লা লোকটা অত ধনাঢ্য ছিলো না। এখন দেখি পাকা বাড়িও করেছে। রেযা ইশারা করে ওটাই আমাকে দেখাচ্ছে। বছর দুয়েকের মধ্যে এ বিশাল আয়োজন তার দ্বারা কিভাবে সম্ভব হয়ে উঠলো সে ব্যাপারে মনে খটকা লেগে গেলো। আবার ধাঁধা! আপাতত কিছু বলার আগেই রেযার বলে উঠলো-

‘চল, করিম মোল্লার সাথে দেখা করে আসি।’


আমিও এগোলাম। লোকটা আমায় স্নেহ করত কিনা! ঘরে ঢুকতেই দেখি করিম মোল্লা আসন পেতে বসে আছে। লোকেরা চারিদিকে ঘিরে আছে। নানান জন নানান অজুহাত-মান্নত নিয়ে এসেছে। করিম মোল্লা কাউকে তাবিজ দেয় তো, কাউকে ঝাঁড়ফুঁক! মুখে কি যেন বিড়বিড় করে পড়ে আর ফুঁক দেয়। বিনিময়ে লোকেরা মোটা অঙ্কের হাদিয়া পকেটে পুরে দিচ্ছে। গলায় রকমারি ডিজাইনের তাসবির মালা। রেযাকে দেখেই বলে উঠলো- ‘বাবা রেযা! এসেছো? সাথে ওটা..... আরররে, ছোকড়াআআ! তুই কখন এলি?’ (আদতে আমি ‘ছোকড়া’ নই, ইরফান। ইরফানুল হক জিহাদ। ‘ছোকড়া’ করিম মোল্লার দেওয়া নাম। ছোটবেলা থেকে আদর করে ডাকে)


‘জি, কাকু এইতো কাল। রেযার মুখে শুনলাম আজ নাকি উরস, তাই সাথে চলে এলাম’--আমি জবাব দিলাম।


-বেশ করেছো বাবা! বেশ করেছো! শহরে গিয়ে তো আমাদের ভুলেই গেলে। যাবার পর থেকে আর কোন খবর-টবর পেলাম না।


-কি যে বলেন চাচা, শহরটা ব্যস্ততম সূর্যের ন্যায়। কোন অবকাশ পেয়ে উঠি না। আমার মত মধ্যবিত্ত ছেলে হলে তো কথায় নেই। কি পরিমাণ সংগ্রাম করে যে ওখানে বেঁচে থাকতে হয়, তা আর বলে বুঝানো যাবে না। তাই আর আপনাদের খবর নিয়ে উঠতে পারি নি। তো চাচা ভালো আছেন?


-আছি বাবা, আছি। এই দেখ, সে কখন থেকে দাঁড় করিয়ে রেখে বকবক করছি, বোসো বোসো। এই কে আছিস, রেযা আর ছোকড়াকে চা দে। 


আমরা বসে পড়লাম। পাশ থেকে জটাচুল ওয়ালা একলোক চা এগিয়ে দিলো। লোকটার গায়ে একটা লাল পাঞ্জাবী। করিম মোল্লা একসময় লালজামা পড়তে আমাকে নিষেধ করতো, এখন দেখি তার অনেক ভক্তের গায়েই লালজামা! এ ব্যাপারটাও ঠিক বুঝলাম না। ধাঁধা! চা’য়ে চুমুক দিতে দিতে ভাবছি, মোল্লাজির আঙুল ফুলে কলাগাছ হবার হেতু কিছুটা বোধয় উদ্ধার করতে পেরেছি.................

চলবে.....


নবাবপুরের হালচাল-৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মসলকে আলা হযরত

বিষয়ঃ মসলকে আলা হযরতঃ একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা। —মুহাম্মদ সৈয়দুল হক শিক্ষার্থী: জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা। ফলপ্রার্থী: ফাযিল প্রথম বর্ষ ★প্রারম্ভিকাঃ  “তমসা ঘেরা এ দুনিয়ার মানুষ দেখিলো সেদিন পথ দীনের আকাশে উদিল যেদিন ‘মসলকে আলা হযরত’ বতুলতায় ভরা এ উপমহাদেশ পেয়েছে সেদিন দিশা রবিসম সে মসলক-গুণে কেটে গেছে অমানিশা।” যাবতীয় প্রশংসা সেঁ মহীয়ান সত্ত্বা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ নবির শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে কবুলের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ইমাম আলা হযরত (রহ.)’র মসলকে কবুল করেছেন। অগুনতি দরুদ ও সালামের নজরানা সেঁ দুজাহানের বাদশা নবি মুহাম্মদ (দ.) এর পাক কদমে, যাঁর অশেষ করুণায় তাঁরই নির্ধারিত যুগের মহান দিকপাল ইমাম আহমদ রেযা খাঁন (রা.)’র মসলকের শামীয়ানায় আমরা আশ্রিত। ইসলামের সকল যুগের সকল সূর্যসন্তানদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালামপূর্বক স্মরণ করছি যাঁর পথ-মত তথা ’মসলক’ নিয়ে লিখতে বসেছি, যুগের সে মহান সংস্কারক, আঁধারে আলোকরশ্মি, দোজকের তাপদাহে জান্নাতি পবন, অথৈ সমুদ্রে জাহাজের কাণ্ডারিতুল্য ইমাম আহমদ রেযা খাঁঁন ব্রেলভী (রা.) কে, যিনি এ পৃথিবীতে না এলে ইসলাম-সূর্য এদ্দিনে হয়ত তাঁর...

প্রশংসিত ৮

 প্রশংসিত-৮ ১. আকাশে ঘনঘন বিদ্যুতের চমক। আগুনের গোলার মতো আলোর রেখা। তিরের গতিতে ছোটে গিয়ে এক জায়গায় অদৃশ্য। যেন দক্ষ শিকারির তাক করা অলঙ্ঘনীয় অভীষ্ট। মিস হওয়ার সুযোগ-ই নেই। মক্কার আকাশে এমন অগ্নিতিরের গতিবিধি বেড়ে গেছে কিছুদিন ধরে। জিন-শয়তানদের মাঝে চরম হতাশা! আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পালিয়ে মরছে। আত্মগোপনের চেষ্টায় মগ্ন কেউকেউ। দুষ্টু জিনদের একদলের সাথে অপর দলের সাক্ষাৎ হলো। বন্ধুগণ, ঘটনা কী? আমাদের প্রতি উল্কাবৃষ্টি শুরু হলো কেন হঠাৎ? শয়তানের সাহায্যে ফেরেশতাদের গোপন কথায় আড়িপাতা কঠিন হয়ে পড়েছে ইদানীং। গণকদের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে পারছি না। এই কারণে তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। অপরদল শোনালো বিষ্ময়কর দুঃসংবাদ! আপন সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বললো—আড়িপাতা বন্ধ করো। “আমরা ফেরেশতাদের মুখে এমন এক কিতাবের পাঠ শুনেছি, যা ইতোপূর্বের কিতাবগুলোকে সত্যায়িত করে এবং সত্য ও সরল পথের দিশা দেয়।” (সুরা ৪৬: ২৯-৩০)। অতঃপর হতাশ জিনসকল হেদায়েতের আশায় মক্কায় নেমে আসতে শুরু করলো… ২. ছোটোখাটো এক পূজোমণ্ডপ। মূর্তির উদ্দেশে সেখানে বাছুর বলি হয়েছে। কাচা মাংসের ভাগ নিতে উপস্থিত মক্কার অন্যতম বীরশার...

রমজান মাহিনা

রমজান মাহিনা —মুহাম্মদ সৈয়দুল হক দ্বারে এসেছে আবার, সেই রহম খোদার রমজান মাহিনা ধরা পেয়েছে আবার খরা পেরিয়ে জোয়ার— রহমত খজিনা। মাফ করিবে খোদায়; হাঁফ ছেড়েছে সবাই সিজদায় পড়ে আজ, পাপ নিয়াছে বিদায় সাফ হয়েছে হৃদয় কোলাহল করে রাজ। ছেড়ে শয়তানি কাম, পড়ে খোদার কালাম, চোখে পর্দা-দখল, হাতে তসবির দান, মুখে জপ সোবহান হাঁকে মসজিদে চল। দেখো জনম-খাদক; যার খাওয়াটাই শখ সদা খাই খাই রব, ডরে এক আল্লার—ঘরে থেকে অনাহার করে সুখ অনুভব। নিয়ে উপাদেয় সব, সবে রয়েছে নিরব পেটে ক্ষুধা-অস্থির— প্রভু দেয়নি আদেশ তাই করে সমাবেশ পড়ে দোয়া-তকবির। রব উঠে তসলিম, ওরে ওরে মুসলিম সম্ভাষে মালায়েক, সব জান্নাতি দ্বার খোলে প্রভু-করুণার ক্ষমে শত নালায়েক। লভে স্বর্গী সুবাস বহে মুক্ত বাতাস পুরো ধরণী অতল শুধু মুসলিম নয় যত ধর্ম ধরায় সেথা মিশেছে সকল।